তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১০ ডিসেম্বর ২০১৫

সচিব

জনাব শ্যাম সুন্দর সিকদার

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে নতুন সচিব জনাব শ্যাম সুন্দর সিকদার ১৯৮৪ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। এর আগে তিনি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবন ও কর্ম দেওয়া হলো।

শ্যামসুন্দর সিকদার ১৯৬০ সালে তৎকালীন বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার পূব-মাদারীপুরের নড়িয়া থানার লোনসিং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে এটি শরিয়তপুর জেলার অন্তর্গত। তার পিতার নাম-গিরেদ্র মোহন সিকদার, মাতার নাম-কৃষ্ণদাসী সিকদার। ৭ ভাই বোনদের মধ্যে তিনি ৩য়। মাটি-জল, খাল-নদী এবং শস্য-শ্যামল প্রকৃতি দেখে দেখে গ্রামীণ পরিবেশে তাঁর কৈশোর কেটেছে।

শিক্ষাজীবন :  নিজগ্রাম দক্ষিণ লোনসিং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর প্রথম পাঠ শুরু। পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত এই স্কুলে অধ্যায়ন। অতঃপর নড়িয়া বিহারী লাল হাই স্কুলে মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করে পরবর্তী সময়ে ফেণী মডেল হাইস্কুলে ভর্তি হন। ১৯৭৫ সালে ঐ স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পাশ করে ফেণী কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৭৭ সালে একই কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি এবং ১৯৭৯ সালে বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৮১ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২০০৮ সালে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীতে এমবিএ ডিগ্রি প্রাপ্ত হন।

কর্মজীবন : মূলত তার কর্মজীবন শুরু হয় শিক্ষাকতা দিয়ে। এরপর ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান। তিনি ১৯৮৪ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৮৬ সালে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করে মাঠ পর্যায়ে এবং সরকারের গুরূত্বপূর্ণ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৫ সালে উপ-সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব হন। এরপর সাভারস্থ বিপিএটিসিতে পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৯ সালে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের অধীনে এবং ২০১০ সালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন। সেখানে দায়িত্ব পালন অবস্থায় ২০১২ সালে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন এবং কিছুদিন পর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে তিনি বিসিকের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেন।

সাহিত্যকর্ম : তার সাহিত্য-জীবন শুরু হয় ছাত্রজীবনে নাটক কবিতা লিখে এবং অভিনয়ের মাধ্যমে। তিনি নিজগ্রাম শরিয়তপুরের লোনসিং-এ ‘মাতৃস্মৃতি সংঘ’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ফেণীর ‘সংলাপ নাট্যগোষ্ঠীর’ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঐ সময় তিনি ফেণীর ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর’ সদস্য ছিলেন। ১৯৮৪-৮৫ সালে তিনি যখন বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন তখন এই ব্যাংকে ‘অধিকোষ সাহিত্য অঙ্গন’ নামক একটি সাহিত্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

১৯৭৬-৭৭ সালে ‘ফলাফল শূন্য’ ও ‘মাটির মন্দির’ নামক দুটি নাটক রচনা করেন এবং তিনি এই নাটক দুটিতে অভিনয় এবং নির্দেশকের ভূমিকাও পালন করেন। ফেণী থেকে প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক পথ’ পত্রিকায় তার জীবনের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হলেও মূলত ১৯৮৪ সাল থেকে তার নিয়মিত লেখা দেশের প্রখ্যাত পত্র-পত্রিকায় ছাপা হতে থাকে। দৈনিক সংবাদ এর ‘খেলাঘর’, বাংলার বাণী, ইত্তেফাক এবং সাপ্তাহিক প্রতিরোধসহ বেশকিছু পত্র-পত্রিকায় তিনি ধারাবাহিকভাবে লিখেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও তথ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত ‘নবারুণ’ ও ‘সচিত্র বাংলাদেশ’ পত্রিকায় তার বেশকিছু লেখা ছাপা হয়। তিনি একসময় দৈনিক ‘মাথাভাঙ্গা’(চুয়াডাঙ্গা) এবং দৈনিক গিরিদর্পণ (রাংগামাটি) পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। তিনি দৈনিক ইত্তেফাক,যুগান্তর এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় মাঝে মধ্যে লিখছেন। ‘দৈনিক আমার কাগজ’ পত্রিকায় তার ধারাবাহিক কবিতা দীর্ঘদিন প্রকাশিত হয়েছে।

তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ জলে জলে সমুদ্র ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়। একই বছর প্রকাশিত হয় অনাহারী অতিথি কাক (২০১২), অতঃপর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ অন্তরে অন্তর টানে নিরন্তর (২০১৩) এবং প্রবন্ধের বইমা মাটি মানুষ ও সমকালীন প্রসঙ্গ (২০১৩) প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৪ সালের বইমেলা উপলক্ষ্যে তার প্রকাশিত গ্রন্থ হচ্ছে : ভ্রমণকাহিনী-জাপান: ভূমিকম্পের সঙ্গে সহাবস্থান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গল্প-ইতিহাস-একাত্তরের জীবন ও যুদ্ধ, গল্পগ্রন্থভালোবাসার নির্বাসন কবিতাগ্রন্থ হৃদয়ে হৃদয়ে যুদ্ধ এবং ছোটদের ছড়ার বই ইচ্ছেডানা। এছাড়া তিনি পার্বত্য জেলার উপর ২০০৪ সালে রাংগামাটি:  বৈচিত্রের ঐক্যতানবইয়ের সহযোগী সম্পাদক ও লেখক ছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে বিসিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষৎ (একটি সমীক্ষা)।

মূলত শ্যাম সুন্দর সিকদার একজন বহুমাত্রিক লেখক ও গবেষক। তার লেখায় সমকালীন জীবন, সমাজ ব্যবস্থা, স্থানীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের আকর অসাধারণভাবে ফুটে ওঠেছে। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনী এবং প্রবন্ধ ইত্যাদি সকল মাধ্যমে তার অবাধ বিচরণ অবারিত এবং সাহিত্য বিচারে তা সমুজ্জ্বল ও বটে।

ভ্রমণ : ভারত, থাইল্যান্ড, চীন, জাপান, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা, সুইজারল্যান্ড, রাশিয়া, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ভিয়েতনাম।

পারিবারিক অবস্থা : তিনি এক পুত্র ও এক কণ্যা সন্তানের জনক। পুত্র অরিজিৎ সিকদার, কণ্যা অন্নেষা সিকদার। স্ত্রী সুপ্রেমা সিকদার।


Share with :